Bong Long Reader

Bong Long Reader

❂❂❂ Free Book Library ❂❂❂

(329 Items)

পরিবেষণ-সুকুমার রায়

‘পরি’পূর্বক ‘বিষ’ধাতু তাহে ‘অনট্’ ব’সে

তবে ঘটায় পরিবেষণ, লেখে অমরকোষে।

–অর্থাৎ ভোজের ভাণ্ড হাতে লয়ে মেলা

ডেলা ডেলা ভাগ করি পাতে পাতে ফেলা।

এই দিকে এসো তবে লয়ে ভোজভাণ্ড

সমুখে চাহিয়া দেখ কি ভীষণ কাণ্ড।

কেহ কহে “দৈ আনো” কেহ হাঁকে “লুচি”

কেহ কাঁদে শূন্য মুখে পাতখানি মুছি।

কোথা দেখি দুই প্রভু পাত্র লয়ে হাতে

হাতাহাতি গুঁতাগুঁতি দ্বম্ভরণে মাতে।

কেবা শোনে কার কথা সকলেই কর্তা-

অনাহারে কতধারে হল প্রাণ হত্যা।

কোনো প্রভু হস্তিদেহ ভুঁড়িখানা ভারী

ঊর্ধ্ব হতে থপ্ করি খাদ্য দেন্ ছাড়ি।

 

কোনো চাচা অন্ধপ্রায় (‘মাইনাস্ কুড়ি’)

ছড়ায় ছোলার ডাল পথঘাট জুড়ি।

মাতব্বর বৃদ্ধ যায় মুদি চক্ষু দুটি,

“কারো কিছু চাই” বলি তড়্ বড়্ ছুটি–

সহসা ডালের পাঁকে পদার্পণ মাত্রে

হুড়্ মুড়্ পড়ে কার নিরামিষ পাত্রে।

বীরোচিত ধীর পদে এসো দেখি আস্তে–

ঐ দিকে খালি পাত, চল হাঁড়ি হস্তে।

 

তবে দেখো, খাদ্য দিতে অতিথির থালে

দৈবাৎ না ঢোকে কভু যেন নিজ গালে।

ছুটো নাকো ওরকম মিছে খালি হাতে

দিয়ো না মাছের মুড়া নিরামিষ পাতে।

অযথা আক্রোশে কিবা অন্যায় আদরে

ঢেলো না অম্বল কারো নূতন চাদরে।

বোকাবৎ দস্তপাটি করিয়া বাহির

কোরো নাকো অকারণে কৃতিত্ব জাহির।

 

সন্দেশ-আষাঢ়, ১৩২৬

error: Content is protected !!
Scroll to Top