গানের গুঁতো
(সুকুমার রায়)
গান জুড়েছেন গ্রীষ্মকালে ভীষ্মলোচন শর্মা—
আওয়াজখানা দিচ্ছে হানা দিল্লী থেকে বর্মা!
গাইছে ছেড়ে প্রাণের মায়া, গাইছে তেড়ে প্রাণপণ,
ছুটছে লোকে চারদিকেতে ঘুরছে মাথা ভনভন্।
মরছে কত জখম হয়ে করছে কত ছটফট্—
বলছে হেঁকে, “প্রাণটা গেল, গানটা থামাও ঝটপট্।”
বাঁধন-ছেঁড়া মহিষ ঘোড়া পথের ধারে চিৎপাত;
ভীম্ষলোচন গাইছে তেড়ে নাইকো তাহে দৃকপাত।
চার পা তুলি জন্তুগুলি পড়ছে বেগে মুর্ছায়,
লাঙ্গুল খাড়া পাগল পারা বলছে রেগে “দূর ছাই”!
জলের প্রাণী অবাক মানি গভীর জলে চুপচাপ,
গাছের বংশ হ’চ্ছে ধ্বংস পড়ছে দেদার ঝুপঝাপ্।
শূন্য মাঝে ঘূর্ণা লেগে ডিগবাজি খায় পক্ষী,
সবাই হাঁকে, “আর না দাদা, গানটা থামাও লক্ষ্মী।”
গানের দাপে আকাশ কাঁপে দালান ফাটে বিলকুল,
ভীষ্মলোচন গাইছে ভীষণ খোসমেজাজে দিল্ খুল্,
এক যে ছিল পাগলা ছাগল, এমনি সেটা ওস্তাদ,
গানের তালে শিং বাগিয়ে মারলে গুঁতো পশ্চাৎ।
আর কোথা যায় একটি কথায় গানের মাথায় ডাণ্ডা,
‘বাপরে’ ব’লে ভীষ্মলোচন এক্কেবারে ঠাণ্ডা।
।। সমাপ্তি ।।