ভুতুড়ে খেলা
(সুকুমার রায়)
পরশু রাতে পষ্ট চোখে দেখনু বিনা চশমাতে,
পান্তভূতের জ্যান্ত ছানা করছে খেলা জোছনাতে।
কচ্ছে খেলা মায়ের কোলে হাত পা নেড়ে উল্লাসে,
আহ্লাদেতে ধুপধুপিয়ে কচ্ছে কেমন হল্লা সে।
শুনতে পেলাম ভূতের মায়ের মুচকি হাসি কটকটে—
দেখছে নেড়ে ঝুন্টি ধ’রে বাচ্চা কেমন চটপটে।
উঠছে তাদের হাসির হানা কাষ্ঠ সুরে ডাক্ ছেড়ে,
খ্যাঁশ্, খ্যাঁশানি শব্দে যেমন করাৎ দিয়ে কাঠ চেরে!
যেমন খুশি মারছে ঘুঁষি, দিচ্ছে কষে কানমলা,
আদর ক’রে আছাড় মেরে শূন্য ঝোলে চ্যাং দোলা।
বলছে আবার, “আয়রে আমার নোংরামুখো সুঁটকো রে,
দেখ্ না ফিরে প্যাখনা ধরে হুতোম-হাসি মুখ ক’রে!
ওরে আমার বাঁদর নাচন আদর গেলা কোঁৎকা রে,
অন্ধবনের গন্ধ-গোকুল, ওরে আমার হোঁৎকা রে!
ওরে আমার বাদলা রোদে জষ্ঠি মাসের মিষ্টিরে।
ওরে আমার হামান ছেঁচা যষ্টিমধুর মিষ্টিরে।
ওরে আমার রান্না হাঁড়ির কান্না হাসির ফোড়নদার,
ওরে আমার জোছনা হাওয়ার স্বপ্নঘোড়ার চড়নদার।
ওরে আমার গোবরাগণেশ ময়দাঠাসা নাদুসরে,
ছিঁচকাঁদুনে ফোকলা মানিক ফের যদি তুই কাঁদিসরে—”
এই না ব’লে যেই মেরেছে কাদার চাপটি ফট্ করে,
কোথায় বা কি, ভূতের ফাঁকি—মিলিয়ে গেল চট্ ক’রে!
।। সমাপ্তি ।।