Bong Long Reader

Bong Long Reader

❂❂❂ Free Book Library ❂❂❂

(329 Items)

বোকা বুড়ি-সুকুমার রায়

এক ছিল বুড়ো আর এক ছিল বুড়ি। তারা ভারি গরিব। আর বুড়ি বেজায় বোকা আর ভয়ানক বেশি কথা বলে—যেখানে সেখানে যার তার সঙ্গে গল্প জুড়ে দেয়—তার পেটে কোন কথা থাকে না।

➤বুড়ো একদিন তার জমি চষতে চষতে মাটির নীচে এক কলসি পেলে, সেই কলসি ভরা টাকা আর মোহর! তখন তার ভারি ভাবনা হল—এ টাকা যদি ফেলে রাখি কোন্‌দিন কে চুরি ক’রে নেবে। আর যদি টাকা বাড়ি নিয়ে যাই, বুড়ি টের পেয়ে যাবে—সে সকলের কাছে তার গল্প করবে; ক্ৰমে কথা রাষ্ট্র হয়ে পড়লে রাজার কোটাল এসে সব কেড়েকুড়ে নিয়ে যাবে। ভেবে ভেবে সে এক ফন্দি আঁট্‌ল। সে ঠিক করল যে বুড়িকে সব কথা বলবে কিন্তু এরকম উপায় করবে যাতে বুড়ির কথা কেউ না বিশ্বাস করে।

➤তখন সে একটা মাছ কিনে এনে তার ক্ষেতের ধারে একটা গাছের উপর বেঁধে রাখল, আর একটা খরগোস এনে নদীর ধারে একটা গর্তের মধ্যে জাল দিয়ে জড়িয়ে রাখল। তারপর সে তার স্ত্রীকে গিয়ে বলল, “একটা ভারি আশ্চৰ্য খবর শুনলাম—গাছের ডালে নাকি মাছ উড়ে বসে আর খরগোস নাকি জলে খেলা করে। আমাদের গণকঠাকুর বলেন—

 

‘মৎস্য বসেন গাছে

জলে খরগোস নাচে

গুপ্ত রতন খুঁজলে পাবে খুঁড়লে তারি কাছে’।”

 

বুড়ি বলল, “তোমার যেমন কথা!” বুড়ো বলল, “হাঁ! এরকম নাকি সত্যি সত্যি দেখা গেছে।” এই বলে বুড়ো আবার কাজে বেরুল।

➤আধঘণ্টা না যেতে যেতেই বুড়ো আবার ফিরে এসে ভারি ব্যস্ত হয়ে বুড়িকে সেই টাকা পাওয়ার কথা বলল। তখন বুড়ো বুড়ি মিলে টাকা আনতে চলল। পথে যেতে যেতে বুড়ো সেই গাছতলায় এসে বলল, “গাছের উপর চকচক করছে ওটা কি?” এই বলে সে একটা ঢিল ছুঁড়তেই মাছটা পড়ে গেল। বুড়ি তো অবাক! তখন বুড়ো বলল, “নদীতে জাল ফেলেছিলাম, মাছ-টাছ পড়ল কিনা দেখে আসি।” জাল টানতেই—ওমা! খরগোস যে! তখন বুড়ো বলল, “কেমন! গণকঠাকুরের কথা আর অবিশ্বাস করবে?” তারপর টাকা নিয়ে তারা বাড়ি এল।

➤টাকা পেয়েই বুড়ি বলল,”ঘর করব, বাড়ি করব, গহনা বানাব, পোশাক কিনব।” বুড়ো বলল, “ব্যস্ত হ’য়ো না—কিছুদিন রয়ে সয়ে দেখ—ক্রমে সবই হবে। হঠাৎ অত কাণ্ড করলে লোকে সন্দেহ করবে যে।” কিন্তু বুড়ির তাতে মন উঠে না—সে একে বলে, ওকে বলে; শেষে একেবারে কোটালের কাছে নালিশ করে দিল। কোটালের হুকুমে বুড়োকে হাতকড়া দিয়ে হাজির করা হল।

➤বুড়ো সব কথা শুনে বলল, “সে কি হুজুর! আমার স্ত্রীর কি মাথার কিছু ঠিক আছে? সে তো ওরকম আবোল তাবোল কত কি বলে।” কোটাল তখন তেড়ে উঠলেন—“বটে! তুমি টাকা পেয়ে লুকিয়ে রেখেছ—আবার বুড়ির নামে দোষ দিচ্ছ?” বুড়ো বলল, “কিসের টাকা? কবে পেলাম? কোথায় পেলাম? আমি তো কিছুই জানি না।”

➤বুড়ি বলল, “না তুমি কিছুই জান না? সেই যেদিন গাছের ডালে মাছ বসেছিল, নদীতে জাল ফেলে খরগোস ধরলে—সেদিনের কথা তোমার মনে নেই? কচি খোকা আর কি?”

➤তাই শুনে সবাই হাসতে লাগল; কোটাল এক ধমক দিয়ে বুড়িকে বলল—“যা পাগলি, বাড়ি যা! ফের যদি এ-সব যা-তা বলবি তোকে আমি কয়েদ ক’রে রাখব।”

➤বুড়ি তখন বাড়ি ফিরে গেল। কোটালের ভয়ে সে আর কারু কাছে টাকার কথা বলত না।

 

সন্দেশ-১৩২২

তথ্যসূত্র: উইকিসংকলন। এই পাঠটি পাবলিক ডোমেইনের অন্তর্ভুক্ত।

error: Content is protected !!
Scroll to Top