সাবধান
(সুকুমার রায়)
আরে আরে, ওকি কর প্যালারাম বিশ্বাস?
ফোঁস্ ফোঁস্ অত জোরে ফেলোনাকো নিশ্বাস!
জানোনা কি সে বছর ওপাড়ার ভুতোনাথ,
নিশ্বাস নিতে গিয়ে হয়েছিল কূপোকাৎ?
হাঁপ ছাড় হ্যাঁসফ্যাঁস ও রকম হাঁ ক’রে—
মুখে যদি ঢুকে বসে পোকা মাছি মাকড়ে?
বিপিনের খুড়ো হয় বুড়ো সেই হল ‘রায়,
মাছি খেয়ে পাঁচমাস ভুগেছিল কলেরায়।
তাই বলি—সাবধান! ক’রোনাকো ধুপধাপ্,
টিপি টিপি পায় পায় চলে যাও চুপ্ চাপ্।
চেয়োনাকো আগে পিছে, যেয়োনাকো ডাইনে-
সাবধানে বাঁচে লোকে, —এই লেখে আইনে।
পড়েছ ত কথামালা? কে যেন সে কি ক’রে।
পথে যেতে প’ড়ে গেল পাতকো’র ভিতরে?
ভালো কথা—আর যেন সকালে কি দুপুরে,
নেয়োনাকো কোনো দিন ঘোষেদের পুকুরে;
এরকম মোটা দেহে কি যে হবে কোন্ দিন,
কথাটাকে ভেবে দেখ কি রকম সঙ্গিন!
চটো কেন? হয় নয় কেবা জানে পষ্ট,
যদি কিছু হ’য়ে পড়ে পাবে শেষে কষ্ট।
মিছিমিছি ঘ্যানঘ্যান্ কেন কর তক্ক?
শিখেছ জ্যাঠামো খালি, ইঁচড়েতে পক্ক,
মানবে না কোনো কথা চলা ফেরা আহারে,
একদিন টের পাবে ঠেলা কয় কাহারে।
রমেশের মেঝ মামা সেও ছিল সেয়ানা,
যত বলি ভালো কথা কানে কিছু নেয় না—
শেষকালে একদিন চান্নির বাজারে
প’ড়ে গেল গাড়ি চাপা রাস্তার মাঝারে!
।। সমাপ্তি ।।